৬ মাস পর উৎপাদনে ফিরে ৩ দিনের মাথায় ফের বন্ধ সিইউএফএল
Table of Contents
কারিগরি ত্রুটিতে আবার থেমে গেল সিইউএফএলের উৎপাদন
Banglajibon.com – ৬ ম স পর উৎপ দন ফ – দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) উৎপাদন কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছিল। তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানাটি চালু রাখার সেই প্রচেষ্টা বেশিদিন টেকেনি। নতুন কারিগরি জটিলতায় বৃহস্পতিবার ভোরে আবার বন্ধ হয়ে যায় ইউরিয়া সার উৎপাদন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত এই সার কারখানায় ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালুর পর যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ও উৎপাদন স্থিতিশীলতা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, সর্বশেষ এই ঘটনায় তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমস্যা নিরসনে কাজ চলছে
সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক উত্তম চৌধুরী জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণেই কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীরা ত্রুটি শনাক্ত এবং সমাধানের কাজ করছেন।
কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। আগামী রোববার অথবা সোমবারের দিকে কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারখানাটি আবার চালু করা সম্ভব হলে প্রথমে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও প্রক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ করে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে। তবে ঠিক কোন যান্ত্রিক অংশে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
উৎপাদন শুরু হয়েছিল মঙ্গলবার
গত মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। এর আগে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করে ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়।
কিন্তু চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কারখানাটি নতুন করে বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ উৎপাদনে ফেরার পর স্থিতিশীলভাবে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব সীমিত সময়ের জন্যই মিলেছে। কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যন্ত্রপাতি চালুর পর কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সেপ্টেম্বরে উৎপাদন শুরুর সময়ও কিছু কারিগরি সমস্যার কথা সামনে আসে। সেগুলো সমাধান করে উৎপাদন অব্যাহত রাখা যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ফের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় কারখানার নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গ্যাস-সংকটে বন্ধ ছিল প্রায় ছয় মাস
গ্যাসের অভাবে গত ৪ মার্চ সিইউএফএলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন হয়নি। গত ২৫ আগস্ট আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর কারখানা চালুর আগে যন্ত্রপাতির অবস্থা যাচাই, বিভিন্ন ইউনিট পরীক্ষা এবং কারিগরি প্রস্তুতি জরুরি হয়ে পড়ে। গ্যাস পাওয়ার পর এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
একটি বৃহৎ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ চালু হওয়া উৎপাদনে ফেরার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলেও সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। দীর্ঘদিন অচল থাকা প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্র, পাইপলাইন ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। সিইউএফএলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই প্রস্তুতির গুরুত্ব আবার সামনে এসেছে।
প্রতিদিন প্রয়োজন বিপুল গ্যাস
পূর্ণ সক্ষমতায় সিইউএফএল চালাতে প্রতিদিন আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। এই গ্যাস ব্যবহার করেই অ্যামোনিয়া উৎপাদন এবং পরবর্তী ধাপে ইউরিয়া সার উৎপাদনের কার্যক্রম চলে। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে কারখানার উৎপাদন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। এই সক্ষমতায় ধারাবাহিক উৎপাদন চললে কৃষিখাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সারের সরবরাহে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে। কিন্তু গ্যাসের ঘাটতি ও যান্ত্রিক সমস্যার পুনরাবৃত্তিতে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আগেও একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে কার্যক্রম
সিইউএফএলের উৎপাদন গত কয়েক বছর ধরে নানা সময়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গ্যাস-সংকটের পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটিও কারখানার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের মার্চে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধের আগে আগের দুই বছরেও বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা উৎপাদন স্থগিত রাখতে হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার প্রভাব যন্ত্রপাতির ওপর পড়তে পারে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষও উল্লেখ করেছিল। সে কারণে গ্যাস সরবরাহ ফেরার পরও উৎপাদন চালু করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়। এখন নতুন ত্রুটি সারিয়ে পুনরায় প্ল্যান্ট চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রোববার অথবা সোমবার নাগাদ উৎপাদন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও সেটি নির্ভর করবে কারিগরি সমস্যার সমাধান এবং প্ল্যান্টের বিভিন্ন ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হওয়ার ওপর। কারখানাটি আবার চালু হওয়ার পর উৎপাদন কতটা স্থিতিশীল রাখা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ৬ ম স পর উৎপ দন ফ?
৬ ম স পর উৎপ দন ফ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ৬ ম স পর উৎপ দন ফ matter?
৬ ম স পর উৎপ দন ফ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
