ঈদ কোরবানির আগমনে কামারদের ব্যবসা কিছুটা বেড়েছে
ক রব ন র ঈদ উপলক – পশু কাটার প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও সামগ্রী প্রস্তুত করতে কামারদের অবস্থা স্থিতিশীল নয়। দোকানগুলোতে পণ্য বিক্রির কাজ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সাইজের ভিত্তিতে ছুরি, বঁটি, চাপাতি ও কুড়াল সহ অনেক পণ্যের জন্য অনুরোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর কদমতলী ও যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত দোকানগুলোতে এ সময় সাজানো হচ্ছে নতুন সামগ্রী তৈরির প্রস্তুতি।
অনেক কামার বলেন, গ্রাম এবং শহরে আগে এই পেশার লাভবান ছিলেন। কোনো রকম ব্যবসা ছিল স্থায়ী। কিন্তু বর্তমানে এই পেশার লাভ কমে গেছে। বিশেষত কারখানার মেশিন ও চীন থেকে আমদানি বিপর্যয় ঘটিয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়া কয়লা, লোহা ও ইস্পাতের কারণে চাহিদা কমে আসছে।
এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যাওয়া হচ্ছে
কদমতলী থানার শনির আখড়ায় পলাশপুরে সাত-আটটি দোকান রয়েছে। এখানে সুজন কর্মকার (৩৯) প্রধান মালিক। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তাঁর দুই সহযোগী সাথে দৈনিক কাজে নিয়োগ পেয়েছেন। পশু কাটার সরঞ্জাম তৈরির জন্য লোহা গলানো ও রশি ধরে বাতাস দেওয়া কাজ করছেন।
‘আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। আমার বাপ-দাদারও কাজ ছিল এখানে। কিন্তু আগের মতো কিছুটা বিপর্যয় আছে। শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই কাজটি করছি।’
যাত্রাবাড়ী অঞ্চলে বিবেক কর্মকার (৫৫) মালিক। তাঁর দোকানের সামনে বিভিন্ন আকারে ছুরি, চাপাতি ও কুড়াল সাজানো রয়েছে। তাঁর সন্তানদের লেখাপড়া করাই হয়েছে। কোরবানির ঈদে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেকে সহায়তা করা হয়েছে।
‘এই ব্যবসা আমার বাপ-দাদার ছিল। কিন্তু শিল্পায়নের কারণে কারখানায় তৈরি হচ্ছে সব পণ্য। দাম বেড়ে গেছে এবং অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। তাই আমাদের চাহিদা কমে গেছে। ভবিষ্যতে পেশাটি ধরে রাখা যাবে না বলে আমি মনে করি।’
রায়েরবাগ থেকে শহীদ বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ছুরি ও চাপাতি কিনতে আসেন তিনি। গতবারের তুলনায় দাম বেশি হয়েছে। কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ থেকে জাহিদ আসেন সরঞ্জাম ঝালিয়ে নিতে। তিনি বলেন, প্রতিবছর এখান থেকে ছুরি ও চাপাতি বিক্রি করা হয়।
বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একটি চাপাতি মূল্য হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। ছুরির মূল্য ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা। ছোট থেকে বড় বঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। কুড়াল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকায়।
