International

২০২৩ সালে আবেদন, ভারতের আপত্তিতে এখনো ব্রিকসের সদস্য হতে পারেনি পাকিস্তান

brics-india-pakistan-ajker-patrika
Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ব্রিকসের সদস্যপদে পাকিস্তানের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ব্রিকসের সদস্যপদে পাকিস্তানের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে

Banglajibon.com – ২০২৩ স ল আব দন ভ রত – বহুপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ব্রিকসে পূর্ণ সদস্য হওয়ার পাকিস্তানের প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলেও ইসলামাবাদের সদস্যপদ প্রশ্নটি জোটের ভেতরে অমীমাংসিত রয়েছে। চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের কথা আলোচনায় এলেও ভারতের আপত্তি পাকিস্তানের পথ কঠিন করে রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক পরিসরে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিকসের সদস্যভুক্তির নিয়মে বিদ্যমান সব সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন হয়। ফলে কোনো একটি দেশের আপত্তিও নতুন আবেদনকারীর অন্তর্ভুক্তি আটকে দিতে পারে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই ঐকমত্য এখনো তৈরি হয়নি, যদিও ব্রিকস কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের আবেদন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।

সম্প্রসারিত জোটে পাকিস্তানের আগ্রহ

ব্রিকসের পরিধি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বড় হয়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জোটটিতে বর্তমানে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে। সদস্যদের তালিকায় আছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্ত হওয়ার পর জোটটির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় এবং ‘ব্রিকস প্লাস’ ধারণা গুরুত্ব পায়। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পাকিস্তানও জোটটির সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বহুপক্ষীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করাই ব্রিকসে যোগ দেওয়ার অন্যতম লক্ষ্য। সে সময় মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালুচ ব্রিকসকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেন।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রশ্নে ব্রিকসকে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে।

কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা

রাশিয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি আগে জানিয়েছিলেন, সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন ব্রিকস সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। বিশেষভাবে রাশিয়ার সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে দেশটি। তবে শুধু কয়েকটি প্রভাবশালী সদস্যের সমর্থন পেলেই আবেদন গৃহীত হয় না; সব সদস্যের সম্মতি লাগার কারণে প্রক্রিয়াটি কূটনৈতিকভাবে জটিল।

পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিরোধে প্রভাবিত। সেই দ্বিপক্ষীয় বাস্তবতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামেও প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিকস সদস্যপদের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান তাই পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে ব্রিকসের মতো জোটে সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। জোটের সম্প্রসারণনীতি, সদস্যদের পারস্পরিক অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং নতুন সদস্য যুক্ত হলে সামগ্রিক ভারসাম্যে তার প্রভাব—এসব বিষয়ও বিবেচনায় আসে। পাকিস্তানের আবেদন নিয়ে প্রকাশ্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়েই আছে।

অর্থনৈতিক বিকল্পের সন্ধান

পাকিস্তানের ব্রিকস আগ্রহের পেছনে অর্থনৈতিক হিসাবও রয়েছে। দেশটি ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব কিনেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কমানোর সম্ভাব্য পথ খুঁজছে ইসলামাবাদ।

নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নকেন্দ্রিক অর্থায়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে এ ধরনের অর্থায়ন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সড়ক, জ্বালানি, পানি, নগর উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। পাকিস্তানের জন্য ব্রিকস কাঠামোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাই শুধু কূটনৈতিক মর্যাদার বিষয় নয়; এটি সম্ভাব্য আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুযোগের সঙ্গেও যুক্ত।

তবে ব্যাংকে অংশীদারত্ব থাকা আর ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হওয়া এক বিষয় নয়। পূর্ণ সদস্যপদ পেলে জোটের রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নীতিগত আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে সদস্য না হয়েও কিছু ক্ষেত্রে ব্রিকস-সংশ্লিষ্ট আর্থিক বা সহযোগিতামূলক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সম্ভব।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের বাড়তি ওজন

সম্প্রসারিত ব্রিকস এখন বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি হিসাবে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশও এই জোটের সদস্যদের অংশ। এই পরিসংখ্যান দেখায়, জোটটি শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়; বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন অর্থায়নের আলোচনাতেও এর গুরুত্ব বাড়ছে।

জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব দেশে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাজার, বিনিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাই ব্রিকস সদস্যদের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

পাকিস্তানের আবেদন আটকে থাকলেও ব্রিকসের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রশ্নটি এখনও খোলা রয়েছে। নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে জোটটি কী ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেবে, তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হবে। আপাতত ইসলামাবাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সদস্যদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।

Frequently Asked Questions

What is ২০২৩ স ল আব দন ভ রত?

২০২৩ স ল আব দন ভ রত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ২০২৩ স ল আব দন ভ রত matter?

২০২৩ স ল আব দন ভ রত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment