ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘নকল সহায়ক’ টেবিল
Table of Contents
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল ঠেকাতে নতুন চ্যালেঞ্জ
Banglajibon.com – ইসল ম ব শ বব দ য – ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও সন্ধ্যাকালীন বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় ব্যবহারের অভিযোগ থামছে না। কাগজে লেখা নোটের পাশাপাশি স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, পরীক্ষার কক্ষে ব্যবহৃত সামনের দিক বন্ধ থাকা টেবিলগুলো নকলের উপকরণ লুকিয়ে রাখাকে সহজ করে তুলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে এমন ক্লোজড ফ্রন্ট টেবিল ব্যবহার হচ্ছে, যার সামনের অংশ পুরোপুরি আবৃত। ফলে পরীক্ষার্থী টেবিলের নিচে কী রেখেছেন, তা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের পক্ষে সহজে দেখা সম্ভব হয় না। উত্তরপত্র লেখা হচ্ছে কি না এবং পরীক্ষার্থীর হাতের দিকে নজর রাখার সময় টেবিলের আড়ালের অংশ অনেক ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের বাইরে থেকে যায় বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন।
অনেক বিভাগেই বন্ধ সামনের টেবিল
আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিনিউকেশন টেকনোলজি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, আইন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ ধরনের টেবিল দেখা গেছে। বাংলা, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান, গণিত, পরিসংখ্যান, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগেও একই ধরনের আসবাব ব্যবহৃত হচ্ছে।
টেবিলের নিচের অংশ আড়াল থাকায় সেখানে কাগজ, ছোট নোট, ফোন বা অন্য কোনো বস্তু রাখা হলে তা সহজে চোখে পড়ে না। পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আসবাবের নকশাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—এমন যুক্তিই সামনে আনছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, চার পাশ থেকে দৃশ্যমান খোলা নকশার টেবিল ব্যবহার করলে তদারকি আরও কার্যকর হতে পারে।
এক বছরে শাস্তি পেয়েছেন ৬০ শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির পাঁচটি সভায় গত বছরের ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত অসদুপায়ের অভিযোগে অন্তত ৬০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন গোপন জায়গায় নকলের কাগজ রেখে আসা, পরীক্ষার হলে স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহারের অভিযোগে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়।
গত বছরের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা কমিটির ৭১তম সভায় ৮ জন শিক্ষার্থী শাস্তি পান। ২১ অক্টোবরের ৭২তম সভায় শাস্তি হয় ৭ জনের, আর ২ ডিসেম্বরের ৭৩তম সভায় শাস্তির আওতায় আসেন ১৩ জন। চলতি বছরের ২২ মার্চ ৭৪তম সভায় ১৫ জন এবং ২২ জুলাইয়ের ৭৫তম সভায় আরও ১৭ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধিমালায় নকলের ঘটনায় একাধিক ধরনের শাস্তির সুযোগ রয়েছে। অপরাধের ধরন বিবেচনায় নির্দিষ্ট কোর্সের পরীক্ষা বাতিল হতে পারে। কেউ মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে সেই সুযোগও সীমিত বা বাতিল হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শুধু সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাই নয়, ইনকোর্স, মিডটার্ম এবং ক্লাস টেস্টেও অসদুপায়ের প্রবণতা দেখা যায়। এতে নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, তদারকির দুর্বলতা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে ঘটনাগুলো সীমিত পরিসরে নিষ্পত্তির চেষ্টা নকলের প্রবণতা কমানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
“এসব টেবিলের কারণে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে মোবাইল, কাগজসহ নকলের উপকরণ রাখার সুযোগ পান কিন্তু শিক্ষকেরা তা ধরতে পারেন না। এসব টেবিল পরিবর্তন করা উচিত।” — ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি
পরীক্ষার পরিবেশে দৃশ্যমানতা বাড়ানোকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে টেবিল বদলের পাশাপাশি হল পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে।
“এসব টেবিলের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে নকল করা যায়। সেমিস্টার পরীক্ষার পাশাপাশি ইনকোর্স, মিডটার্ম ও ক্লাস টেস্টেও নকল হয়। অতিরিক্ত নকল প্রবণতার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আস্থা হারাচ্ছেন।” — আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রউফুল্লাহ খান
পরীক্ষার ফলাফল কেবল নম্বরের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি, মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানের সঙ্গেও জড়িত। তাই অসদুপায় ঠেকাতে কেবল ধরা পড়ার পর শাস্তি নয়, পরীক্ষাকক্ষের বিন্যাস, দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রশাসনের ভাবনা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক মিয়া জানিয়েছেন, টেবিলগুলোর বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
“এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। টেবিলগুলো যদি শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে আসব। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।” — প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক মিয়া
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে নকল প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি আগে জানিয়েছেন, সভাপতি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিয়ম নতুনভাবে নির্ধারণের কাজ চলছে।
“পরীক্ষায় যেকোনো অসদুপায় ঠেকাতে সভাপতি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার নিয়ম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার হলে মোবাইলসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ৩০ নম্বর সেমিস্টার পরীক্ষার আগে প্রকাশ, সিসিটিভি স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।” — উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান
মোবাইল ও সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা, সিসিটিভি স্থাপন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ৩০ নম্বর সেমিস্টার পরীক্ষার আগে প্রকাশের উদ্যোগ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর হোক। পরীক্ষার কক্ষে ব্যবহৃত টেবিলের নকশা পর্যালোচনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সক্রিয় তদারকি এবং নকলের ঘটনায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে অসদুপায়ের সুযোগ কমানো সম্ভব হতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইসল ম ব শ বব দ য?
ইসল ম ব শ বব দ য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইসল ম ব শ বব দ য matter?
ইসল ম ব শ বব দ য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
