নতুন এলএনজি টার্মিনালসহ ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
Table of Contents
শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বহুমুখী পরিকল্পনা সরকারের
Banglajibon.com – নত ন এলএনজ ট র ম ন – শিল্প উৎপাদনে হঠাৎ গ্যাস-সংকটের প্রভাব কমাতে দেশীয় অনুসন্ধান বাড়ানো, নতুন এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সম্ভাব্য নতুন উৎস ব্যবহারের সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ২০৩০-২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননসহ বড় পরিসরে ভূকম্পন জরিপ পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার, যাতে সাময়িক সংকটেও শিল্প খাত বড় ক্ষতির মুখে না পড়ে।
কূপ খনন ও ভূকম্পন জরিপে লক্ষ্য
সরকারের পরিকল্পনায় ১৫০টি নতুন কূপ খননের কথা রয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক বা ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি সাইসমিক সার্ভে চালানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভূগর্ভে সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে এ ধরনের জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমুদ্রসীমার ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। বিড জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত রাখা হয়েছে। স্থলভাগে অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদেশি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যেও ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ শুধু উৎপাদন চালু রাখার বিষয় নয়; এটি রপ্তানিমুখী শিল্পের সময়মতো সরবরাহ, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ পরিবেশের সঙ্গেও যুক্ত।
নতুন এলএনজি টার্মিনালের প্রস্তুতি
বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ব্যবহার করে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করার এই সক্ষমতা বাড়াতেই নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সাল থেকে সেখান থেকে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মাতারবাড়ীতে স্থাপনাধীন ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
ভাসমান টার্মিনাল তুলনামূলকভাবে দ্রুত স্থাপনের সুযোগ দিতে পারে, আর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত সক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। এ দুই ধরনের ব্যবস্থা একসঙ্গে থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিকল্প পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলের উপযোগী কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আকস্মিক গ্যাস ঘাটতির সময় অতিরিক্ত সরবরাহ সক্ষমতা পাওয়া যাবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
ভোলার গ্যাস ব্যবহারে স্থানীয় শিল্পের অগ্রাধিকার
ভোলার গ্যাসকে জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে আনার বিষয়টিও সংসদে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস দেশের মূল নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ভোলার গ্যাস যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সেখানে সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ও বিবেচনায় আছে।
ভোলায় গ্যাসনির্ভর কিছু শিল্প স্থাপনের চেষ্টা ইতিমধ্যে চলছে। স্থানীয়ভাবে গ্যাসের ব্যবহার বাড়লে ওই অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং স্থানীয় অর্থনীতির পরিসর সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বীপাঞ্চলের সম্পদ সেখানে শিল্পভিত্তি গড়তে ব্যবহার করার এই ধারণা পরিবহন ও দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণের সময়সাপেক্ষ বাস্তবতাকেও বিবেচনায় রাখে।
ভোলার গ্যাস তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দেওয়ার সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাসের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে শিল্পে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড এবং বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা
সরকারের ঘোষিত উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য দেশীয় গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতার চাপ সামাল দেওয়া এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে একই পরিকল্পনার আওতায় রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
নতুন কূপ খনন বা সাইসমিক জরিপের ফল তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ বাড়ায় না; এগুলো সম্ভাব্য মজুত শনাক্ত এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদনের ভিত্তি তৈরির কাজ। অন্যদিকে এলএনজি টার্মিনাল সংকটের সময়ে অতিরিক্ত সরবরাহের বিকল্প তৈরি করতে পারে। ফলে দেশীয় অনুসন্ধান ও আমদানি অবকাঠামো—দুই পথেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা শিল্পখাতের চাহিদা মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is নত ন এলএনজ ট র ম ন?
নত ন এলএনজ ট র ম ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does নত ন এলএনজ ট র ম ন matter?
নত ন এলএনজ ট র ম ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
