International

মার্কিন–ইসরায়েলি যুদ্ধের পর এবার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের শঙ্কায় ইরান

basij_i0sKuj4
Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com
Table of Contents
  1. যুদ্ধের ধোঁয়া কাটার পর ইরানের ভেতরে নতুন উদ্বেগ: অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

যুদ্ধের ধোঁয়া কাটার পর ইরানের ভেতরে নতুন উদ্বেগ: অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা

Banglajibon.com – ম র ক ন ইসর য় ল – ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি শুধু সীমান্তের বাইরের হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের ভেতরে ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের ধরা পড়া এবং স্থল সীমান্তে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর একের পর এক আসছে। যুদ্ধ চলাকালীন এবং তার আগে এই ধরনের তথ্য প্রকাশের তীব্রতা বেড়েছে, যা ইরানি কর্তৃপক্ষের একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে — যুদ্ধটি কেবল বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার একটি মৌলিক লড়াই। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা এবং প্রতিরোধক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যও এখানে কাজ করছে।

সর্বশেষ গ্রেপ্তার ও আইআরজিসির অভিযোগ

সাম্প্রতিক ঘটনায় আটজনের একটি নেটওয়ার্কের সদস্যদের হাতেনাতে ধরা পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী এই নেটওয়ার্কটি ‘বিপ্লববিরোধী’ এবং ‘রাজতন্ত্রপন্থী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তিরা জানুয়ারিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের সময় মলোটভ ককটেল তৈরি ও টায়ার জ্বালার কাজে জড়িত ছিলেন।

জানুয়ারির বিক্ষোভ: রাজতন্ত্রের প্রশ্ন ও অর্থনৈতিক সংকট

ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে জানুয়ারির বিক্ষোভ একটি মাইলফলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ইরানি নাগরিক ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে পতনপ্রাপ্ত রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমানে দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে বিদেশে অবস্থান করছেন। জানুয়ারিতে তিনি ইরানিদের দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওই অস্থিরতার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: বর্তমানে ইরানের ভেতরে কোনো সংগঠিত রাজতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর মূল চালিকাশক্তি ছিল অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদ — রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন ছিল না এসব আন্দোলনের ভিত্তি। দেশের অর্থনীতির অবনতি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ জন্মাচ্ছে, এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের নেতারা আরও বিক্ষোভের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রাজতন্ত্রপন্থী ‘সেল’ গ্রেপ্তারের দাবি

যুদ্ধের শুরুর মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন। ইরানের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জায়গায় রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি বিশেষভাবে জোরালো ছিল। এরপর ইরান সরকার রাজতন্ত্রের সমর্থক বলে দাবি করা বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে। ১৮ মার্চ গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় তথ্য প্রকাশ করে যে দেশের ২৬টি প্রদেশে তথাকথিত ১১১টি ‘রাজতন্ত্রপন্থী সেল’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানুয়ারির বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সশস্ত্র এজেন্টরা এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল এবং তাদের মধ্যে রাজতন্ত্রপন্থীরাও ছিল।

মানবাধিকার সংকট ও মৃত্যুদণ্ড

বিক্ষোভ দমনের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ‘নিষ্ঠুরতার’ নিন্দা করেছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিচার বিভাগ কয়েক ডজন বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যাদের মধ্যে জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজনও রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিল্পী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে — কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী তারা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

পশ্চিম সীমান্তে কুর্দি সশস্ত্র হুমকি

ইরানের পশ্চিম সীমান্তে, ইরাকের সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় কুর্দি যোদ্ধারা দেশটির সবচেয়ে বড় অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র হুমকি। ইরানি কর্তৃপক্ষ যেসব গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাদের বেশ কয়েকটি বহু বছর ধরে উত্তর ইরাকের স্বাধীনতাসুচক কুর্দি অঞ্চলে ঘাঁটি গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সামরিক বাহিনী ইরাকে এসব গোষ্ঠীর পরিচালিত ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরাক সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগও নিয়েছে ইরান।

চলতি বছরের যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনা ছিল, কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পশ্চিম ইরানে সীমিত স্থল অভিযান চালাবে — যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের ব্যাপক বিমান হামলার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। মার্চের শুরুতে জানা যায়, কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজেএকে), ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (পিডিকেআই) এবং কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে)-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ইরানি কুর্দি যোদ্ধা সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন।

তবে এসব গোষ্ঠী জানত তাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই। একই সঙ্গে অভিযান শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো সংকেতও তারা পায়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ

Frequently Asked Questions

What is ম র ক ন ইসর য় ল?

ম র ক ন ইসর য় ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম র ক ন ইসর য় ল matter?

ম র ক ন ইসর য় ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment