International

ব্রিটিশ সেনাবাহিনী: ধর্ষণ-যৌন নির্যাতন যেখানে নিত্য ঘটনা

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com
Table of Contents
  1. আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন নির্যাতনের চিত্র
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন নির্যাতনের চিত্র

Banglajibon.com – ব র ট শ স ন ব – ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজে (এএফসি) যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও হারানির বিষয়ে সাবেক চার নারী প্রশিক্ষণার্থী গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে তারা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে—যখন তারা ১৭ বছর বয়সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন—একাধিকবার যৌন নিপীড়ন ও হারানির শিকার হয়েছেন। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটিতে নারীবিদ্বেষ, যৌন সহিংসতা এবং ভুক্তভোগীদের দোষারোপের একটি বিপজ্জনক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। চারজনই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তাদের পরিচয় গোপন রাখতে বিবিসি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য

বিবিসির তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে নর্থ ইয়র্কশায়ার পুলিশ এএফসিকে ঘিরে যৌন অপরাধের ১৬টি অভিযোগ পেয়েছে। এসবের মধ্যে প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ, গোপনে নজরদারি (ভ্যারিজম) এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কতগুলো মামলার বিচার বা দণ্ড হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এএফসিতে যৌন নিপীড়নের মোট ১৭৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩২টি অভিযোগ ছিল স্থায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে এবং ১৪৪টি অভিযোগ ছিল জুনিয়র সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে।

এএফসির পরিচয় ও গঠন

বর্তমানে উত্তর ইয়র্কশায়ারের হারোগেটে অবস্থিত এএফসি হলো যুক্তরাজ্যের ১৯ বছরের কম বয়সী সেনা প্রশিক্ষণার্থীদের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া সব ১৬ বছর বয়সী সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে কলেজটিতে মোট ৮৮৯ জন জুনিয়র সেনাসদস্যের মধ্যে ৭০ জন নারী।

টিলির অভিজ্ঞতা: ধর্ষণ ও অবহেলা

টিলি (ছদ্মনাম) নামের এক তরুণী বলেন, ছোটবেলা থেকেই সেনাসদস্য হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তিনি সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন এবং অপ্রচলিত পেশার নারীদের দেখে অনুপ্রাণিত হতেন। কিন্তু প্রশিক্ষণকালে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

কয়েকজন সহপাঠী তাঁকে একটি কক্ষে ডেকে নেয়। তিনি সরল বিশ্বাসে সেখানে যান। এরপর তারা তাঁর কাপড় খুলে ফেলে এবং তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন শুরু করে। ওরা অনেকজন ছিল। তারা শরীরের বিভিন্ন জায়গা স্পর্শ করছিল, অপমানজনক মন্তব্য করছিল। মেয়ে না, ওদের কাছে আমি ছিলাম একটা বস্তু।

এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা একাধিক সহপাঠী তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন টিলি।

আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন একটা মাংসের টুকরো।

ওই ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেনাবাহিনী ছেড়ে দেন টিলি। তিনি বলেন, ওখানে আর থাকতে পারিনি। আমি জানতাম, পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে আমাকে সেই মেয়ে হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে, যে নাকি অনেকের সঙ্গে শুয়েছে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, টিলি পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু পরে কোনো অভিযোগ গঠন হয়নি। কারণ হিসেবে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস পুলিশি তদন্তকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রতুল’ বলে মন্তব্য করেছিল। পরে অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি স্বীকার না করেই টিলির সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করা হয়।

মোনিকা ও অ্যামির কাহিনী

দ্বিতীয় তরুণী মোনিকা জানান, এক সহপাঠী তাঁকে একটি কক্ষে আটকে যৌন নিপীড়ন করে। তিনি বলেন, সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, যাতে আমি বের হতে না পারি। তারপর আমাকে জোর করে চুমু খেতে শুরু করে এবং সারা শরীরে স্পর্শ করে। শেষ পর্যন্ত ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি। পরবর্তীতে অন্য একটি স্বাস্থ্যগত কারণে মোনিকাকে কলেজ ছাড়তে হয়। তবে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর কলেজ ছাড়তে পারাটা স্বস্তিই পেয়েছিলেন।

তৃতীয় তরুণীর মা চেরিল বিবিসিকে বলেন, তাঁর মেয়ে অ্যামি যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিন যৌন হারানির শিকার হতেন। তিনি জানান, মেয়ের কক্ষের তালা নষ্ট থাকার রাতে পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে ঢুকতে না পারে, সে জন্য অ্যামি অনেক সময় দরজার সামনে শুয়ে থাকতেন।

আমার মেয়েকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে।

এলির অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষকদের ভূমিকা

চতুর্থ ভুক্তভোগী এলি জানান, প্রশিক্ষকরাই সেখানে চরম নারীবিদ্বেষী পরিবেশ তৈরি করতেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রশিক্ষক মেয়েদের সৌন্দর্য দেখে নম্বর দিতেন। আবার না বলে মেয়েদের রুমে ঢুকে পড়তেন।

আমি পদাতিক বাহিনীর সদস্য হতে চেয়েছিলাম। দেশের সেবা করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এএফসিতে যা দেখেছি, তার পর সেনাবাহিনীতে থাকার ইচ্ছাই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

প্রশিক্ষকদের দণ্ড ও সমালোচনা

গত পাঁচ বছরে এএফসির কয়েকজন প্রশিক্ষক সামরিক আদালতে যৌন ও শারীরিক সহিংসতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালে করপোরাল ড্যানিয়েল কনওয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় এক সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই বছরে করপোরাল সাইমন বারট্রাম যৌন নিপীড়নের দায়ে ২০ মাসের সামরিক আটকাদেশ পান। তবে বিবিসির বর্তমান অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর সঙ্গে এই দুই প্রশিক্ষকের কোনো সম্পর্ক নেই।

টিলির অভিযোগ, ধর্ষণের পর এক প্রশিক্ষক অন্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, সেই মেয়েটার কথা তোমরা শুনেছ, সে নাকি এতজনের সঙ্গে শুয়েছে? টিলি বলেন, একজন প্রশিক্ষকের মুখে এমন কথা শুনে মনে হয়েছে, নারীদের শুধু একটি ভোগ্যবস্তু হিসেবেই দেখা হয়। এতে প্রশিক্ষণার্থী অন্য ছেলেদের কাছেও ভুল বার্তা দেওয়া হয়।

চেরিলের ভাষ্য, তাঁর মেয়েকেও প্রশিক্ষকেরা ‘বেশ্যা’ ও ‘খারাপ মেয়ে’ বলে অপমান করতেন। তিনি বলেন—একজন প্রশিক্ষক আমার মেয়েকে বলেছিলেন, প্রতি বছর একটা মেয়েকে সবাই চায়। মনে হচ্ছে, এবার সেই মেয়েটা তুমি।

Frequently Asked Questions

What is ব র ট শ স ন ব?

ব র ট শ স ন ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব র ট শ স ন ব matter?

ব র ট শ স ন ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment