International

এবার চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে উত্তাল ঝাড়খণ্ড, চলছে ১২ দিন ধরে

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ঝাড়খণ্ডে চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র হচ্ছে
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ঝাড়খণ্ডে চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র হচ্ছে

Banglajibon.com – এব র চ কর র পর ক – রাজ্যের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল বারো দিন আগে, কিন্তু এখন তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে শত শত ছাত্রছাত্রী যোগ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই বিক্ষোভ

গত পাঁচ জুলাই তারিখে চৌদ্দতম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দিন-রাত টানা বিক্ষোভ এবং অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

ক্রমশ তীব্র হতে থাকা এই আন্দোলনের মুখে অবশেষে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংলাপে বসার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গতকাল বুধবার রাঁচির মহকুমা শাসক কুমার রজত আন্দোলনস্থলে গিয়ে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সাথে সরকারের আলোচনার আগ্রহের কথা জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঁচ থেকে সাতজন প্রতিনিধির একটি দল মনোনীত করতে বলেন।

একই সাথে তিনি আশ্বাস দেন, সরকার প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে চায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার জন্য মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা

রজত জানান, নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যেই তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। তবে শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রস্তাবিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা করতে হলে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হতে হবে এবং তা প্রকাশ্যে করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, সরকারের সাথে যেকোনো আলোচনা গণমাধ্যমের উপস্থিতি ও ক্যামেরার সামনে হতে হবে।

গত পাঁচ দিন ধরে অনশন করা শিক্ষার্থী নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো আজ বৃহস্পতিবার বলেন, আন্দোলনকারীরা আলোচনার জন্য নিজেদের প্রতিনিধিদের নাম জানাবেন। তবে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

গ্রেপ্তার বৃদ্ধি, সিআইডি তদন্ত চলছে

শিক্ষার্থীরা অনিয়মের ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ইতোমধ্যেই সিআইডি তদন্ত করছে এবং এ ঘটনার গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বুধবার সিআইডি পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা টিডিপিএল-এর হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে গ্রেপ্তার করেছে।

রাজ্যের সরকারি পরীক্ষার আয়োজনের প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন সিং। তিনিও নিজে জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সিআইডি লখনউ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাঁচিতে নিয়ে আসে। এ ঘটনার সিআইডি আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নতুন এসব গ্রেপ্তারের পর মামলার মোট গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে বিশ জনে।

নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের পুরো পরিধি উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল রেকর্ড, আবেদন-সংক্রান্ত লগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখছে।

রাজনৈতিক সমর্থন ও বিরোধী দলের প্রশ্ন

বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, যুবকদের এই আন্দোলন প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে একটি প্রেশার গ্রুপ বা জনচাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করবে।

মহারাষ্ট্রের নিজের শহর ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় দীপকে বলেন, রাঁচিতে ২৯ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করা চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে সিজেপির সদস্যরা ঝাড়খণ্ডে যাবেন।

দীপকে বলেন, মানুষ বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়েছে। আমাদের আন্দোলন দেশজুড়ে সমর্থন পেয়েছিল। আন্দোলন যত বিস্তৃত হয়েছে, সেই সমর্থন শুধু শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিষয়টি এসব প্রতিষ্ঠান নিয়েও ছিল। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি জনচাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রয়োজন।

ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে রাহুল গান্ধীর নীরবতা অপরাধমূলক। রাজ্যে তাদের সরকার বলেই কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী নীরব। ঝাড়খণ্ডের যে ছেলেমেয়েরা প্রতিবাদ করছেন, তাদের নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। রাহুল গান্ধী এবং হেমন্ত সোরেন কেন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেননি?

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা ও ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি বলেন, সরকার আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করবে।

আনসারি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কমিটি গঠন করেছেন…আমরা আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছি। আলোচনা হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনব এবং সেগুলো যুক্তিসংগত হলে অবশ্যই মেনে নেব। তারা আমাদের শিক্ষার্থী, আমাদের সন্তান।

Frequently Asked Questions

What is এব র চ কর র পর ক?

এব র চ কর র পর ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does এব র চ কর র পর ক matter?

এব র চ কর র পর ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment