চট্টগ্রামে বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধার নিয়ে নতুন তদন্তের মুখে পুলিশ কর্মকর্তারা
Banglajibon.com – ব য গ ল খ ইয় ব – চট্টগ্রাম সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টে একটি দূরপাল্লার বাস থেকে উদ্ধার করা ব্যাগ নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ওই ব্যাগে থাকা আনুমানিক এক লাখ পিস ই-সিগারেট আত্মসাৎ করে ঘটনাটি ঢাকতে চেষ্টা করেছেন। ঘটনার দেড় মাস পর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হলে অভিযুক্তরা নতুন করে ‘৪০০ পিস ই-সিগারেট’ উদ্ধারের গল্প সাজিয়ে ভুয়া জব্দ তালিকা তৈরি করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার বিস্তারিত
ঘটনার দিন চেকপোস্টের কাছে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার প্রায় ১২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৪ জুন বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের স্ক্যানিয়া মডেলের বাসটি সিটি গেট চেকপোস্টে এসে থামে। বাসের নিচের লাগেজ বক্স খোলার পর সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে একটি লাল রঙের ব্যাগ নামিয়ে নিচে রাখা হয়।
বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মালিক শনাক্ত করতে না পেরে আকবরশাহ থানার এএসআই আরিফ ব্যাগটি হাতে নিয়ে চেকপোস্টের দিকে হেঁটে যান। ফুটেজে ব্যাগের কাছে এসআই সাজ্জাদ ও এএসআই মেজবাহ উদ্দিনকেও অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে সরকারি অন-ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী, ওই সময় এএসআই আরিফের সিটি গেট চেকপোস্টে কোনো ডিউটি ছিল না।
যাত্রী ও ব্যাগ নিয়ে অসংগতি
বাসটির সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছান জানান, ২৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসার পর সিটি গেটে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে উঠে তল্লাশি চালান। এ সময় সব যাত্রী নিজ নিজ ব্যাগ বুঝে নিলেও একটি লাল ব্যাগের দাবিদার পাওয়া যায়নি। ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে ওই আসনের দিকে গিয়ে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীও বাসে অনুপস্থিত। বাসের ভেতর তল্লাশির সময়ও ওই যাত্রী সিটে ছিলেন।
যাত্রীকে না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা আমার মোবাইল নম্বর রাখে এবং ব্যাগটি নিজেদের জিম্মা রাখতে দেয়। পরে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই। ব্যাগের ভেতর কী ছিল, তা আমার সামনে খোলা হয়নি।
পুলিশের দ্বন্দ্বপূর্ণ বক্তব্য ও তদন্ত
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা কোনো বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধার বা ই-সিগারেট পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন। আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ৪ জুন থানা এলাকায় ৪০০ পিস ই-সিগারেট উদ্ধারের একটি ঘটনা আছে। সেটার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এসব ই-সিগারেট চেকপোস্টে কোনো বাস থেকে উদ্ধার হয়নি।
বর্তমানে পুলিশ যে ৪০০ পিস ই-সিগারেট জব্দের তালিকা দেখাচ্ছে, তাতে সাক্ষী হিসেবে সোহাগ পরিবহনের বাসটির সুপারভাইজার হাছানের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। তবে হাছান তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, তিনি জব্দ তালিকার স্বাক্ষর করেননি। ব্যাগটিও তাঁর সামনে খোলা হয়নি।
পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর তথ্যে, বাস থেকে উদ্ধার করা তালাবদ্ধ ব্যাগটি প্রথমে নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ও পরে আকবরশাহ নন্দন হাউজিংয়ের একটি বাসায় নেওয়া হয়। এরপর আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত কমিটির কাজ ও ফলাফল
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, ‘একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সিএমপির পক্ষ থেকে ইনকোয়ারি (তদন্ত) টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব য গ ল খ ইয় ব?
ব য গ ল খ ইয় ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব য গ ল খ ইয় ব matter?
ব য গ ল খ ইয় ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
