Bangladesh

সরকারি চিকিৎসক ক্লিনিকের মালিক, পায়ে অস্ত্রোপচারের পর ড্রিলের ফলা রেখেই করলেন সেলাই

Foto : Michael Williams - banglajibon.com

চিকিৎসকের ক্লিনিকে ড্রিলের ফলা হাড়ের ভেতরে, সেলাই করা হয়নি

Banglajibon.com – সরক র চ ক ৎসক ক ল – নাটোরের বনপাড়া উপজেলার জাহেদ চিকিৎসক ক্লিনিকের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। পা-এর গোড়ালির ওপর অস্ত্রোপচারের সময় হাড়ের ভেতরে ড্রিল মেশিনের ভাঙা ফলাটি রেখেই সেলাই করার অভিযোগ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আনোয়ারা বেগমের পা কেটে ফেলার উপক্রম হয়। পা রক্ষা করতে দ্বিতীয়বার ঢাকায় গিয়ে অস্ত্রোপচার করানোয় তাঁকে অন্তত সাত লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত

পাঁচানব্বই বছর বয়সী আনোয়ারা বেগম গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের লালচাঁন মোহাম্মদের স্ত্রী। গত তিন জুন রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় তাঁর পা পিছলে পড়ে বাম পা-এর গোড়ালির কাছে হাড় ভেঙে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম তাঁকে নিজস্ব ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। ষাট হাজার টাকায় সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের পর এক্স-রে ছবিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় হাড়ের ভেতরে ড্রিল মেশিনের ভাঙা ফলাটি আটকে আছে। কিন্তু চিকিৎসক বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিন থেকে চার দিন পর কাটা স্থান থেকে পুঁজ বের হতে শুরু করে। পঁচিশ দিন ধরে উপজেলা হাসপাতালে ড্রেসিং করা হলেও কোনো উন্নতি হয়নি।

ঢাকায় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার

চিকিৎসক জাহিদের চিকিৎসায় অনীহা প্রকাশ করলে পরিবার বাধ্য হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক এক্স-রে রিপোর্ট দেখে পা কেটে ফেলার শঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসক আইয়ুব আলীর অধীনে আনোয়ারা বেগমের দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার হয়।

অস্ত্রোপচারের সময় ভেঙে যাওয়া ড্রিল মেশিনের ফলাটি হাড়ের ভেতরেই রয়ে গেছে। এ ছাড়া হাড় জোড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত প্লেটের স্ক্রুগুলোও অগোছালোভাবে লাগানো ছিল। ক্ষতস্থানের মাংসে পচন হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

চিকিৎসক আইয়ুব আলী মোবাইল ফোনে জানান, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রোগীকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। হাড়ের ভেতরে আটকে থাকা ফলাটি বের করার চেষ্টা করলে পা কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকায় তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ওষুধের মাধ্যমে সেটি অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে। টানা বাইশ দিন চিকিৎসা শেষে রোগীকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকদের দাবি-প্রতিদাবি

প্রথম অস্ত্রোপচারটিকে সম্পূর্ণ ‘অসফল ও অপেশাদার’ আখ্যা দিয়ে চিকিৎসক আইয়ুব আলী বলেন, আর কয়েক দিন দেরি হলে রোগীর পা কেটে ফেলতে হতো। পচে যাওয়া মাংস অপসারণ করে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের দাবি, অপারেশন যথাযথ ছিল। ভুলবশত ড্রিল মেশিনের ফলা ভেতরে রয়ে যায়। এটি কোনো সমস্যা ছিল না কারণ এটি জীবাণুমুক্ত ছিল। হাড় জোড়া লাগানোর পরে অপারেশন করে ফলাটি অপসারণ করা যেত। কিন্তু তাঁকে না জানিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা করানো এবং ফুড চার্ট অনুসরণ না করার কারণে রোগীর পা-এর অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

Leave a Comment