Bangladesh

মাদারীপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ভাঙন, আতঙ্কে পাড়ের মানুষ

Foto : Richard Smith - banglajibon.com

মাদারীপুরে নদীভাঙন বেড়েছে, নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কে

Banglajibon.com – ম দ র প র নদ র – টানা বৃষ্টির কারণে মাদারীপুর জেলার নদ-নদীতে পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে স্রোতের তীব্রতাও বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মা, আত্রাই খা ও পালরদী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এই ভাঙনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্রোতের কারণে তা তেমন কার্যকর হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুর জেলার প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোট পনেরোটি নদ-নদী রয়েছে। এগুলো হলো পদ্মা, পালরদী, মনাকাটা, বিষারকান্দি, কুমার, কীর্তিনাশা এবং অন্যান্য। টানা বৃষ্টিতে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় নদীভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভাঙনের শিকার এলাকা ও প্রতিষ্ঠান

মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর, টেকেরহাট, পাচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচর, পূর্ব মহিষেরচর এলাকার আচমত আলী খান ব্রিজসংলগ্ন অংশ, বাহাদুরপুর, দুধখালী, শ্রীনদী, শিখখাড়া ইউনিয়নের চর ঘুনসি, কালকিনি উপজেলার খুনেরচর, খাশেরহাট, সিডিখান এলাকার নতুন চরদৌলত খা অংশ, করিম খানের হাটসহ শিবচর, রাজৈর ও ডাসার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে অনেক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অনেক এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও সমাধানের আহ্বান

কালকিনি উপজেলার খুনেরচর এলাকার কৃষক মো. জনাল বলেন,

আত্রাই খা নদে আমার ঘরবাড়ি একাধিকবার ভেঙেছে। এই নদ আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। ৫ বছর আগে বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তা স্রোতের টানে হারিয়ে গেছে। এবারও কিছু বালুর বস্তা ফেলেছে। তাও খুব কম। এগুলো তেমন একটা কাজে আসেনা। এখানে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে কাজ হতো।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার জনাল হোসেন বলেন,

আমার বাসার সামনেই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। জিও ব্যাগ ফেললেও তা কাজে আসে না। এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেই দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন সমস্যা দূর হবে।

পূর্ব মহিষেরচর এলাকার শাহেরুর বিবি বলেন,

এখানে প্রতিবছরই নদী ভাঙে। ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির খুব কাছে চলে এসেছে নদী। তাই আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন,

জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, ভাঙন বেড়েছে। তাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে প্রকল্প অনুমোদন হলে এলাকাবাসীর চাওয়া অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া ভাঙন বাড়াতে কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, যাতে করে এই ভাঙন কিছুটা হলেও রোধ করা যায়।

ভাঙন প্রতিরোধে সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ হাজার বালুর বস্তা বিভিন্ন এলাকায় ফেলা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Comment