আইনমন্ত্রী বলেন: আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমানো সম্ভব
Banglajibon.com – আগ ম এক বছর ২০ ল খ – বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমের ফলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে বলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা আদালতের ওপর বিরাট বোঝা সৃষ্টি করছে।
স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনে মামলার সংখ্যা হ্রাসের পরিচয় দিয়েছে পাইলট প্রকল্প। যেখানে পূর্বে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ৫ হাজার ৬০৫টি মামলা দায়ের হয়েছিল, তার তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১০টিতে। এটি প্রায় ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাসের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন কার্যক্রমের কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সাথে এই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। তিনি জানান, পারিবারিক আদালত আইনে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে, যা ৫১ শতাংশ হ্রাসের প্রমাণ। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪টি থেকে ১৮টিতে।
বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর জন্য সরকার আরও বিস্তার করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন যে এই কার্যক্রম দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এছাড়া নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে মামলায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস হয়েছে। পিতামাতার ভরণপোষণ আইনে মামলার সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে।
কক্সবাজারের উদাহরণ তুলে ধরেন মন্ত্রী
মন্ত্রী কক্সবাজার জেলার ক্ষেত্রে নজির তুলে ধরেন। বর্তমানে সেখানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে যা উদ্বেগজনক। তিনি আরও জানান যে বিভিন্ন আইনে গড়ে মামলা হ্রাসের হার ৬২ দশমিক ২ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচার বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধি। বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী সহ বিশেষ জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যোগদান করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার শুধু মামলা কমাতে চায় না; অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই সেবার ব্যাপক প্রচার করতে হবে।

