৭ মাসের সাজিদকে হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না
৭ হ সপ ত ল ঘ র – পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির পরিবারে পাঁচটি কন্যা ছেলে ছিল। তাদের একমাত্র পুত্র সাজিদ আল নাহিয়ান গত ৭ মাস আগে জন্মগ্রহণ করে। বিপুল আনন্দে পরিবার ছেলেটিকে নাম দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই আনন্দের স্থানে মাতম ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল সাজিদ জ্বর ও সর্দি-কাশির সম্মুখীন হয়েছিল। সে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহীত হয়। ডাক্তারের পরামর্শে পরিবার ওষুধ প্রদান করে। কিছুদিন পর ছেলেটি কিছুটা উন্মুখীন হয়।
১২ মে তার অবস্থা আবার অস্থির হয়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবার ফেনীয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। কিন্তু সেখানেও কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। অতএব ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হসপিটাল ও তেজগাঁওয়ে ইমপালস হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। তেজগাঁওয়ে ইমপালস হসপিটালে চিকিৎসা শেষে সাজিদ হামে আক্রান্ত হয়েছে জানান ডাক্তার।
অবস্থার অবনতির কারণে ছেলেটিকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল সকালে তার মৃত্যু ঘটে। পারভেজ আহমেদ সুমন বলেন, ‘তিন মেয়ের পর আমাদের কোলজুড়ে এসেছিল সাজিদ। কিন্তু সাতটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আমি আমার আদরের মানিককে হামের হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না।’
গতকাল সন্ধ্যায় সাজিদের জানাজা সম্পন্ন হয়। ছেলেটির মরদেহ নিয়ে জানাজার পরিবার চিৎকার করে বলেন, ‘তোমরা আমার বুকের ধনকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? আমার বুক তো খালি হয়ে গেল।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানান, ‘সাজিদ আল নাহিয়ান হামে আক্রান্ত হয়ে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অবস্থার অবনতি ঘটার পর আমরা তার পরিবারকে ঢাকায় পাঠাই। শুনেছি আজ সকালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন।’
