খাদিজা এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী হয়েছেন, বোনদের বই-খাতা কালবৈশাখী ঝড়ে ভিজে নষ্ট হয়েছে
ক লব শ খ ত ঘর ব – গুরুদাসপুর পৌরসভার খোয়ারপাড়া মহল্লায় অবস্থিত এক পরিবারের সব আসবাবপত্র ও বইখাতা কালবৈশাখী ঝড়ে পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি অন্য বাড়িতে অস্থায়ী আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। তিন বোনের বইপত্র ও বিদ্যালয়ে পড়ার সামগ্রিক চালানো হয়েছে একটি বৃষ্টিতে।
গতকাল শনিবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের দুটি টিনের ছাপরা ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এ সময় ঘরে থাকা সব জিনিসপত্র এবং তিন বোনের বই-খাতাও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেল। সেই বই ও খাতার ক্ষতির কারণে পরিবারটি গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছে। বোনদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে নতুন করে বই কেনার সামর্থ্য নেই বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
অভাবের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রতি আশার আলো
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বাবা আশরাফ মৃধা (৬০) খেত-খামার ও ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। জমিজমা না থাকায় তাঁরা অন্যের জায়গায় ছোট ছাপরা ঘর বসবাস করতেন। নিজেদের কষ্ট করে মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আশরাফ মৃধা জানান।
‘অনেক কষ্ট করে মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি। ভাবছিলাম শিক্ষা হয়তো একদিন তাদের ভাগ্য বদলাবে। কিন্তু এক ঝড়েই সবকিছু তছনছ হয়ে গেল।’
খাদিজা বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আছিয়া খাতুন গুরুদাসপুর সরকারি সামসুজ্জোহা কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ফাতিমা খাতুন বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। এ বিষয়ে বলেছেন, বই ভিজে গেলেও খাদিজা আজকের পরীক্ষায় হাজির হয়েছেন।
আছিয়া ও ফাতিমা জানায়, অভাবের মধ্যেও বাবার কঠোর পরিশ্রম তাদের সাহস জুগিয়েছে। বোনদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া দ্বারা পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে চায় তারা। কিন্তু ঝড়ে বই ও খাতার ক্ষতির কারণে ভবিষ্যতের স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তার কথা
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, তিনি বিষয়টি জানেন। বর্তমানে তিনি এলাকার বাইরে থাকায় পরিবারটির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। আগামী বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে ফিরে পরিবারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।
