Business

চামড়ার মোকামে মন্দার ছায়া

চামড়া বাজারে আবারও পরিস্থিতি কঠিন

চ মড় র ম ক ম মন – ঈদুল আজহার আগে সরকার কোরবানির চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এই দামে বিক্রি হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ঢাকায় দাম ঘোষণা করা হয়েছে ৬২-৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে তা ৫৭-৬২ টাকা। তবে চামড়া সংগ্রহকারীদের এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে দামের প্রকৃত প্রতিফলন হচ্ছে না।

বাজারের বিপর্যয়ে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শঙ্কিত। তাঁদের বলা হচ্ছে, লবণের দাম বস্তাপ্রতি প্রায় এক শত টাকা বেড়েছে এবং তার ফলে খরচ বাড়ছে। ট্যানারি পর্যায়ে বকেয়া অর্থ সমস্যা সৃষ্টি করছে। মহাজনদের সুদের হারও উপরে চলছে।

রাজারহাট মোকামের আড়তদার আবদুল মালেক জানান, ট্যানারিমালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে রয়েছে। ঈদের আগে অর্থ না পেলে ব্যবসার দুর্বলতা আরও বাড়বে। সার্বিক দিক থেকে চামড়া পাচার রোধে কঠোর মনিটরিং এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে।

যশোরে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রাজারহাট মোকামে ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনাবেচা হয়। সেখানে দুই শতাধিক আড়ত এবং প্রায় দুই হাজার কর্মসংস্থান রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, জেলা প্রশাসন চামড়ার বাজার মনিটরিং ও পাচার বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের কার্যকর পরিচালনার দরকার রয়েছে।

খুলনায় শেখপাড়া এলাকার চামড়া ব্যবসার ঐতিহ্য থাকলেও গত সাত বছরে অনেক দোকান বন্ধ হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশনের কাছে স্থায়ী মার্কেট প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে। সেখানে নতুন মার্কেট না হলে চামড়া সংগ্রহ এবং বিক্রি সংকট আরও বাড়বে বলে বাবর আলী অভিহিত করেছেন।

চামড়া ব্যবসায়ীদের এবং এই শিল্প বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

খুলনায় কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম ঢালী বলেন, খুলনায় চামড়া ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কোনো আধুনিক জবাইখানার ব্যবস্থা নেই।

শেখপাড়া চামড়াপট্টির ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। তখন মহাজন ছিল। মৌসুমে ফড়িয়া ব্যবসা করত। এখন মহাজন-ফড়িয়া বলে কিছু নেই। সবাই ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ঘোষ বলেন, সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় ব্যবসাও ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। অনেক পুরোনো ব্যবসায়ী আর এই খাতে সক্রিয় নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চামড়াশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে দাম নির্ধারণ ছাড়াও আর্থিক সহায়তা, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। নতুন করে অবকাঠামো উন্নয়ন, বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং স্থায়ী বাজার প্রতিষ্ঠা করলে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।

Leave a Comment